থার্মোমিটার তিন রকমের না। স্কেলও তিন রকমের না। থার্মোমিটার স্কেল আট টি।
সেলসিয়াস C
ফারেনহাইট F
কেলভিন K
নিউটন প্রকাশ করা হয় N দিয়ে
ডেলিসেল প্রকাশ করা হয় De দিয়ে
রেনকিন(Rankine) প্রকাশ করা হয় R দিয়ে
রিউমার(Rêaumur) প্রকাশ করা হয় Ré দিয়ে
রোমার(Rømer) প্রকাশ করা হয় Rø দিয়ে
আবিষ্কারকদের নামই স্কেলের নাম।
ড্যানিয়েল গ্যাব্রিয়েল ফারেনহাইট (১৬৮৬–১৭৩৬) ১৭২৪ সালে তার ডায়েরিতে লিখেন, তিনি তার তাপমাত্রা পরিমাপক স্কেল টি দাঁড়া করিয়েছেন ৩ টি তাপমাত্রা সাপেক্ষে। সেগুলোর প্রথম টি হল বরফ, পানি এবং অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড এর মিশ্রণের তাপমাত্রা, যাকে তিনি ০ °F বলেছেন। পরের তাপমাত্রা হল পানি এবং বরফের মিশ্রণের তাপমাত্রা, যা ৩২ °F নির্দেশ করে। শেষ তাপমাত্রা টি হল ৯৬ °F যা মানব দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা। এছাড়া তার স্কেল অনুসারে পারদের স্ফুটনাঙ্ক হল ৬০০ °F।
পরবর্তিতে বিজ্ঞানীরা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন পানির স্ফুটনাঙ্ক, তার হিমাঙ্কের চেয়ে প্রায় ১৮০ ডিগ্রী বেশি। তাই তারা পানির স্ফুটনাঙ্ক এবং হিমাঙ্কের মধ্যবর্তী পার্থক্য পুরোপুরি ১৮০ ডিগ্রী ধরে ১ ডিগ্রী ফারেনহাইটের সংজ্ঞা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন।এর ফলে নতুন সংশোধিত স্কেলে মানব শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা দাঁড়ায় ৯৮.৬ °F।
বন্ধু হারমেন বোরহেভ (Herman Boerhaave) এর কাছে লিখা এক চিঠিতে ফারেনহাইট জানান তিনি ফারেনহাইট স্কেল তৈরি করেছেন ওল রোমার (Ole Rømer) নামে ডেনমার্কের গণিতজ্ঞ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীর উদ্ভাবিত ওল রোমার স্কেল এর ভিত্তিতে। ওল রোমার তার উদ্ভাবিত স্কেলে ২ টি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা সাপেক্ষে। একটি হল ব্রাইন এর হিমাঙ্ক (শূন্য ডিগ্রী) এবং অপরটি পানির স্ফুটনাঙ্ক (৬০ ডিগ্রী)। ফারেনহাইট হিসেব করে দেখেন এ স্কেল অনুসারে পানির হিমাঙ্ক হয় ৭.৫ ডিগ্রী। ফারেনহাইট এই ভগ্নাংশ দূর করার জন্য ওল রোমার স্কেলের সব কিছুকে চার দিয়ে গুণ করেন। তিনি পানির হিমাঙ্ক এবং মানব শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার মধ্যবর্তী তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য নতুন করে একটি স্কেল তৈরি করেন। তার নতুন স্কেল উদ্ভাবনের কারণ হল এর মাধ্যমে ৩২ ডিগ্রী এবং ৯৬ ডিগ্রী তাপমাত্রার মথ্যবর্তী স্থানকে খুব সহজে ৬ বার সমদ্বিখন্ডিত করে দাগাঙ্কন করা যায় ( কারণ (৯৬-৩২) = ৬৪ = ২^৬)।
১৮৬২ সালে স্কটল্যান্ডের পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম থমসন লর্ড কেলভিন 'পরম শূন্য' তাপমাত্রার ধারণা দেন। তিনি দেখান যে -২৭৩.১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পদার্থের কণাগুলোর গতি একেবারে থেমে যায়। গতিশক্তি শূন্য হয়ে যাবার কারণে তখন পদার্থের চাপও শূন্য হয়ে যায়। এই তাপমাত্রাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা ধরে তাপমাত্রার নতুন একটি স্কেল চালু হয়। যা কেলভিন স্কেল নামে পরিচিত। পরম শূন্য তাপমাত্রাকে শূন্য ডিগ্রি কেলভিন ধরা হয়। এই তাপমাত্রার নিচে আর কিছুতেই যাওয়া সম্ভব নয়, কারণ এই তাপমাত্রায় পদার্থের তাপ, চাপ, পারমাণবিক গতি সব শূন্য হয়ে যায়।
প্রশ্নের মূল উত্তর দিয়ে দিলম।
তাপমাত্রার প্রথম স্কেল কিন্তু রোমার চালু করেছিলেন। 1702 সালে।
°C °K °F বাদে বাকি 5 টির স্কেলে পানির গলনাঙ্ক এবং স্ফুটনাঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি। আপনারা চাইলে সূত্রে বসিয়ে নিয়েন। ( দশমিক, তাই বিরক্ত লাগছে বলে আমি করছি না😒)
বরফের গলনাঙ্ক
0°N
150°De
491.67°R
0°Ré
7.5°Rø
পানির স্ফুটনাঙ্ক
33°N
0°De
671.67°R
80°Ré
60°Rø
পরম শূন্য তাপমাত্রা
-90.14°N
559.73°De
0°R
-218.52°Ré
-135.90°Rø
মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা
12°N
95°De
558.07°R
29.51°Ré
26.87°Rø
Wolframalpha থেকে👇
উইকিপিড়িয়াতে এটা পেলাম,
( ছবি সূত্র )
Comments